নোটিশ

শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১১

রোযার পরিচয় ও করণীয়


সাধারণত রোযা বলতে ছুবহি ছাদিক্ব থেকে শুরু করে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত নির্জন অবস্থান ও পানাহার থেকে বিরত থাকাকে বুঝায়। তবে এর সাথে সাথে মিথ্যা, গীবত, চোগলখোরী, ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি-কাটাকাটি, গালি-গালাজ, অশ্লীল-অশালীন, ফাসিক্বী ও নাফরমানিমূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
কারণ, হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে- আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি রমাদ্বান শরীফ-এ খারাপ কাজ করে, শরাব পান করে, ব্যভিচার করে এমন ব্যক্তি রমাদ্বান শরীফ-এর রোযা রাখলেও তা কবুল হবে না। বরং আল্লাহ পাক উনার ফেরেশতাকুল, আসমানের সব অধিবাসী উনারা পরবর্তী রমাদ্বান শরীফ-এর আগ পর্যন্ত ওই ব্যক্তির উপর লা’নত বর্ষণ করতে থাকেন।” নাঊযুবিল্লাহ! (গুনইয়াতুত ত্বলিবীন)

মহিমান্বিত মাসসমূহের মধ্যে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ অন্যতম। এ মাসের ইবাদত-বন্দেগীর ফযীলত অন্যান্য মাসের চেয়ে বহুগুণ বেশি। এ মাসে বেশি বেশি তওবা-ইস্তিগফার, ইবাদত-বন্দেগী করে তাক্বওয়া হাছিলের মাধ্যমে আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেজামন্দি-সন্তুষ্টি হাছিল করাই সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ-এ ইবাদতের ফযীলত সম্পর্কে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “রমাদ্বান শরীফ-এ আদম সন্তানের প্রতিটি নেক আমল দশগুণ থেকে সাতাশ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়ে থাকে।” (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ) 

এ সম্পর্কে ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, রোযা এমন একটি ইবাদত যার ছওয়াবের পরিমাণ একমাত্র আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই ভালো জানেন। আর তাই হাদীছে কুদসী শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

الصوم لى وانا اجزبه

অর্থ: “নিশ্চয়ই রোযা একমাত্র আমার জন্যই রাখা হয়, আর আমিই এর প্রতিদান দিবো।” সুবহানাল্লাহ!

সুতরাং মাহে রমাদ্বান শরীফ-এ প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর নিম্নবর্ণিত বিষয়াবলী আমল করা উচিত-
১.         রোযা রাখা।
২.         তারাবীহ নামায নিয়মিত আদায় করা।
৩.         পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামায়াতের সাথে (পুরুষ হলে) আদায় করা।
৪.         কালামুল্লাহ শরীফ খতম করা বা বেশি বেশি ক্রুআন শরীফ তিলাওয়াত করা।
৫.         যিকির-আযকার করা।
৬.         হালাল উপার্জন করা বা হালাল খাদ্য গ্রহণ করা।
৭.         মিথ্যা কথা না বলা
৮.         হারাম কাজ থেকে বিরত থাকা।
৯.         আওলিয়ায়ে কিরাম উনাদের ছোহবত ইখতিয়ার করা।
১০.       খুরমা-খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা ও সাহরী শেষ করা।
১১.        গরীব-মিসকীনদের খাওয়ানো বা সাহরী-ইফতার করানো।
১২.       বেশি বেশি দান ছদক্বা করা।
১৩.       যাকাত আদায় করা।
১৪.       সর্বপ্রকার অপছন্দনীয় কাজ থেকে বিরত থাকা।
১৫.       প্রত্যেক ঘরে ঘরে রহমত-বরকতের জন্য অবশ্যই বেশি বেশি মীলাদ শরীফ-ক্বিয়াম শরীফ ও দুআর মাহফিলের ব্যবস্থা করা।
১৬.       কাউকে কষ্ট না দেয়া।
১৭.       হারাম গান-বাজনা পরিহার করে হামদ, না’ত, ক্বাছীদা শরীফ শ্রবণ করা।
১৮.       অপ্রয়োজনীয় কথা থেকে বিরত থাকা। কেননা রোযাদারের চুপ থাকাটা তাসবীহ তুল্য।
১৯.       দিনের বেলা প্রয়োজন বা পরিমাণ মতো ঘুমানো। কেননা রোযাদারের ঘুমও ইবাদত তুল্য।
২০.       সঠিক সময়ে সতর্কতার সাথে সাহরী ও ইফতার করা।
২১.       যাদের পক্ষে সম্ভব রমাদ্বান শরীফ-এর শেষ দশ দিন ই’তিকাফ করা। যা সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া।
২২.       শেষ দশ দিন বিজোড় রাত্রিগুলোতে লাইলাতুল ক্বদর বা শবে ক্বদর তালাশ করা। সজাগ থেকে ইবাদত-বন্দেগী ও দুআ ইস্তিগফার করা।

মোট কথা, পূর্ণ এক মাস রোযা, ইবাদত-বন্দেগী, রিয়াযত-মাশাক্কাত, যিকির-ফিকির, ইলম অর্জনের মাধ্যমে তাক্বওয়া হাছিল করত আগামী দিনগুলোতেও একইভাবে তাক্বওয়ার দ্বারা আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মতে মত ও পথে পথ থাকার কোশেশ করাই সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য।