নোটিশ

শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১১

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের পরিচয়

ছাহাবা শব্দের অর্থ হলো সাথী। প্রসঙ্গতঃ প্রশ্ন হলো ছাহাবী কারা? এ প্রশ্নের সহজ সরল জাওয়াব হলো যাঁরা ঈমানের সাথে সাইয়্যদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছেন, উনার মুবারক ছোহবত অর্জন করেছেন এবং ঈমানের সাথে যমীন থেকে বিদায় নিয়েছেন, উনারাই ‘ছাহাবী’।


ছাহাবীগণের সংখ্যা:
মশহুর বর্ণনা মতে হযরত ছাহাবয়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের সংখ্যা প্রায় সোয়া লাখ ছিল।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের ফযীলত ও মর্যাদা:
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী। কারণ তাঁদের মর্যাদার উৎসই হচ্ছে আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছোহবত। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁদের সততা, বিশ্বস্ততা, শরাফত, আত্মত্যাগ, সদাচার, আল্লাহভীতি, তাক্বওয়া, ইখ্‌লাছ, ইহসান, আমানত, দিয়ানত, দ্বীনদারী, সহানূভূতি, বীরত্ব, সাহসিকতা, ঈমানদারি ইত্যাদি সবই ছিল নজীরবিহীন। তাঁরা ছিলেন নিষ্কলুষ ও পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারী। কথায়, কাজে, নছীহতে, উঠা-বসায়, চলা-ফেরায়, ব্যবহারে, এক কথায় যাবতীয় কাজে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পূণ্যতম আদর্শ তাঁদের জীবন মুবারকে প্রতিফলিতও বাস্তবায়িত হয়েছে। তাঁরা ছিলেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাস্তব অনুকরণ ও অনুসরণকারী ব্যক্তিত্ব।
তাই তাঁরা সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ মানব এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শের বাস্তব নমুনা। এ ব্যাপারে সকলেই একমত যে, ছাহাবীগণের সমমর্যাদা পূর্ববর্তী যূগের কোন উম্মতই লাভ করতে পারবেনা। কেননা ছাহাবীগণ স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট কালামুল্লাহ শরীফ শিক্ষা করেন। তাঁরা আল্লাহ পাক ও তাঁর রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক পরবর্তী উম্মতের জন্য মনোনীত এবং ঘোষিত হয়েছেন আদর্শ পথপ্রদর্শক এবং সত্যের মানদণ্ডরুপে। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মতের তাঁরাই প্রথম সূত্র। পরবর্তী উম্মত কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফের ব্যাখ্যা, ভাষ্য, রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম-এর পরিচয়, শিক্ষা, পবিত্র জীবনাদর্শ দ্বীন ইসলামের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁদেরই মাধ্যমে লাভ করেছেন । সুতরাং, প্রতিষ্ঠিত ঐক্যমত উপেক্ষা করা বা এর স্বকীয়তা বিনষ্ট করার অর্থই হলো ঈমান ও ইসলাম থেকে খরিজ হওয়া।

আল্লাহ পাক স্বীয় কালাম পাকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা সম্পর্কে ইরশাদ করেন, “হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ পাক-এর রসূল এবং তাঁর সাথী বা ছাহাবীগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল। আল্লাহ পাক-এর অনুগ্রহ ও সন'ষ্টি কামনায় আপনি তাঁদেরকে রুকূ ও সিজদাবনত দেখবেন। তাঁদের এরূপ অবস্থা তাওরাত শরীফে বর্ণিত রয়েছে। আর ইনজীল শরীফে তাঁদের অবস'া এরূপ বর্ণিত রয়েছে, যেমন একটি চারাগাছ, যা থেকে নির্গত হয় ডাল-পালা। অতঃপর তা শক্ত ও মজবুত হয় এবং দৃঢ়ভাবে কাণ্ডের উপর দাঁড়ায়, কৃষককে আনন্দে অভিভূত করে । অর্থাৎ, ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের সংখ্যা চারা গাছে, অনুরূপ বৃদ্ধি পেতে থাকবে। যেমন তাঁরা শুরুতে অল্প সংখ্যক হবেন, এরপর তাঁদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং শক্তি অর্জিত হবে, যাতে তাঁদের দ্বারা কাফেরদের অন্তর্জ্বালা বা হিংসার সৃস্টি হয়। যারা ঈমান আনয়ন করে এবং নেক আমল করে আল্লাহ পাক তাঁদেরকে ক্ষমা ও মহা পুরুস্কারের ওয়াদা দিয়েছেন। অর্থাৎ সমস্ত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণকে ক্ষমা ও মহা পুরস্কারের ওয়াদা দেয়া হয়েছে।” (সূরা ফাতাহ-২৯)

উল্লিখিত আয়াত শরীফে “তাঁর ছাহাবী” থেকে আয়াত শরীফের শেষ পর্যন্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণের গুণাবলী, শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশেষ লক্ষণাদি বর্ণনা করা হয়েছে। যদিও নুযূল খাছ তবে হুকুম হচ্ছে আম অর্থাৎ এতে সকল ছাহাবায়ে কিরামগণই দাখিল রয়েছেন। অর্থাৎ সমস্ত ছাহাবয়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ছিলেন পরস্পর পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল আর কাফিরদের প্রতি কঠোর। আল্লাহ পাক ও তাঁর হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যেই আক্বাইদ, ইবাদত, মুয়ামিলাত, মুয়াশারাত ও তাছাউফ ইত্যাদি সবই করেছেন। তাই হাদীছ শরীফে হযরত ছাহাবা আজমাঈন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের অনুসরণ ও অনুকরণ এবং ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান, মর্যাদা-মর্তবা সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। যে ব্যক্তি শরীয়তের সঠিক তরীক্বা অনুসরণ করতে চায়, তার উচিত যারা অতীত হয়েছেন, তাঁদেরকে অর্থাৎ আল্লাহ পাক-এর হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রিয় ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের অনুসরণ করা। তাঁরা উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম। আত্মার দিক দিয়ে তাঁরা অধিক পবিত্র। ইল্‌মের দিক দিয়ে গভীর। তাঁরা লোক দেখানো আমল করা হতে মুক্ত। আল্লাহ পাক তাঁদেরকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথী হিসেবে মনোনীত করেছেন। সুতরাং, তাঁদের মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান, শান-শওকত সম্পর্কে অবগত হও এবং তাঁদের কথা ও কাজের অনুসরণ কর এবং যথাসম্ভব তাঁদের সীরাত-ছূরত তথা মুবারক জীবনাদর্শকে গ্রহণ কর, কারণ তাঁরা হিদায়েত ও “ছিরাতুল মুস্তাক্বীম”-এর উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত।” (মিশকাত শরীফ পৃঃ৩২)