মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় মহান
আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত পাঠ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও
উনার প্রতি ছলাত পাঠ করো এবং সালাম দেয়ার মতো সালাম দাও অর্থাৎ যথাযথ আদব সহকারে
তথা ক্বিয়াম বা দাঁড়িয়ে সালাম পেশ করো।
খালিক্ব, মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজেই
সর্বপ্রথম পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেন।
পাশাপাশি বান্দা-বান্দীদেরকেও পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করার নির্দেশ প্রদান করেন।
তাই বলার অপেক্ষাই রাখে না যে, পবিত্র ঈদে
মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিরোধিতা করা মূলত মহান আল্লাহ পাক
উনার বিরোধিতা করা।
যা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ ঈমান নষ্ট হয়ে জাহান্নামী হওয়ার
কারণ।
যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও
মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, কুতুবুল আলম,
আওলাদে
রসূল, সাইয়্যিদুনা
ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন,
সাইয়্যিদুল
মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত, ছানা-ছিফত, প্রশংসা তথা
মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে সর্বপ্রথম ঈদ পালন করেছেন
মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন তিনি স্বয়ং নিজে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি
কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ করেন- “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
আপনি স্মরণ করুন সেই সময়ের কথা) যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি আলমে আরওয়াহতে সমস্ত
হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাছ থেকে ওয়াদা নিয়েছিলেন যে, আপনাদেরকে আমি
কিতাব ও হিকমত দান করবো। অতঃপর আপনাদেরকে সত্য প্রতিপাদনের জন্য (নুবুওওয়াত ও
রিসালতের হাক্বীক্বী ফায়িজ দেয়ার জন্য) আখিরী রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনাকে প্রেরণ করবো। আপনারা উনাকে নবী ও রসূল হিসেবে মেনে নিবেন এবং সর্ববিষয়ে উনার
খিদমত করবেন (উনার মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ পালন
করবেন)। আপনারা কি এই ওয়াদার কথা মেনে নিলেন? উত্তরে উনারা
সকলে বললেন, হ্যাঁ- আমরা এই ওয়াদা স্বীকার করে নিলাম (অর্থাৎ আমরা যমীনে গিয়ে
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মীলাদুন
নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ পালন করবো)। তখন মহান আল্লাহ পাক
তিনি বললেন: আপনারা সাক্ষী থাকুন, আমিও আপনাদের সাথে সাক্ষী হয়ে গেলাম। তবে জেনে
রাখুন, যারা
এই ওয়াদাকৃত বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে (যারা মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ পালন করবে না বা এর বিরোধিতা করবে) তারা চরম পর্যায়ের ফাসিক (ও
কাফির) হয়ে যাবে।” (সূরা আলে ইমরান : আয়াত শরীফ ৮১-৮২)
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত
মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এ আয়াত শরীফ-এ
স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি নিজেই হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম
উনাদের সাথে পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেছেন।
আবার হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যমীনে এসে পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং যারা যমীনে এসে
পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করবে না বরং এর
বিরোধিতা করবে তারাই চরম পর্যায়ের ফাসিক ও কাফির হবে সে সম্পর্কে ঘোষণাও দিয়েছেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ ফরমান- “হে আমার হাবীব
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সৃষ্টি করেছি সাক্ষ্যদাতা,
সুসংবাদদাতা
ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে। অতএব, তোমরা (উম্মতরা) মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনো এবং তোমরা হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত করো, সম্মান করো ও
সকাল-সন্ধ্যা অর্থাৎ সদা-সর্বদা উনার ছানা-ছিফত বর্ণনা করো অর্থাৎ ঈদে মীলাদুন নবী
পালন করো।” (সূরা ফাতহ : আয়াত শরীফ ৮-৯)
অনুরূপ আরো বহু আয়াত শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত বা প্রশংসা করেছেণ। যা মূলত,
মীলাদুন
নবী পালন করার নামান্তর।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত
মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, অতএব প্রমাণিত
হলো- খালিক্ব, মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজেই সর্বপ্রথম পবিত্র ঈদে
মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেন। পাশাপাশি
বান্দা-বান্দীদেরকেও পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন
করার নির্দেশ প্রদান করেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন- “হে মানবজাতি!অবশ্যই তোমাদের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে এসেছেন মহান নছীহতকারী,
তোমাদের
অন্তরের সকল ব্যাধিসমূহ দূরকারী এবং ঈমানদারদের জন্য মহান হিদায়েতকারী ও মহান
রহমতস্বরূপ (হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। হে আমার
হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, তোমরা মহান
আল্লাহ পাক উনার দয়া, ইহসান ও রহমত (হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনাকে পেয়ে উনার জন্য ঈদ উদযাপন তথা খুশি প্রকাশ
করো। তোমরা যতো কিছুই করো না কেনো পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম পালন করাই হচ্ছে সমগ্র কায়িনাতের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও সর্বোত্তম নিয়ামত।”
(সূরা
ইউনুস : আয়াত শরীফ ৫৭- ৫৮)
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত
মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এ আয়াত শরীফ
দ্বারা মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত মাখলূকাতের জন্য পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করাকে ফরয করে দিয়েছেন। মূলকথা হলো- খালিক্ব,
মালিক
রব মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজেই সর্বপ্রথম পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেন। পাশাপাশি বান্দা-বান্দীদেরকেও পবিত্র
ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করার নির্দেশ প্রদান করেন।
তাই বলার অপেক্ষাই রাখে না যে, পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম-এর বিরোধিতা করা মূলত মহান আল্লাহ পাক উনার বিরোধিতা করা। যা কাট্টা
কুফরীর অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ ঈমান নষ্ট হয়ে জাহান্নামী হওয়ার কারণ।